“অদেখা হৃদয়ের কাছে”
লিখেছেন: সিঁথি জান্নাত (ছন্দ নাম)
----(বাস্তব ঘটনা নিয়ে)----
চরিত্র পরিচয়
অনি
২৩ বছরের স্বাভাবিক, শান্ত স্বভাবের এক ছেলে। খুব বেশি কথা বলে না, কিন্তু মনটা অসম্ভব পরিষ্কার। বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয়। ছবি তোলা, গান শোনা আর গভীর রাতে ল্যাপটপে কাজ করা—এই তার লাইফস্টাইল। যার প্রতি মন থেকে চাইনা, তার সাথে কখনো ভান করে না।
সিঁথি
২২ বছরের হাসিখুশি, সিম্পল আর একটু জেদি মেয়ে। চোখে সবসময় তার নিজের ছোট্ট স্বপ্নের একটা ঝিলিক থাকে। পড়াশোনা করে, তবে ছবি এডিটিং আর ডায়েরি লেখা তার শখ। কারও ওপর সহজে ভরসা করে না… কেবল যাদের কাছে সে নিরাপদ বোধ করে।
হাসিখুশি কিন্তু ভিতরে খুব সংবেদনশীল। বাইরে থেকে খুব স্মার্ট মনে হলেও ভেতরে ভীষণ নরম। তীব্রভাবে নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসে, তবে কখনো কখনো ভেতরের ভেঙে যাওয়া কাউকে বলে না।
বন্ধুত্ব নিয়ে সে খুব সিরিয়াস। কারণ বাস্তব জীবনে সে বহুবার প্রতারিত হয়েছে—boys just “friendship” নামে অন্য কিছু চাইতে আসে, এটা সে বুঝে গেছে।
সিঁথি মনে মনে বলত—🌼
“একবার সত্যিকারের, ভরসার মতো একজন বন্ধু চাই…
যার সামনে আমি নিজের মতো হতে পারবো।”
পার্ট ১: প্রথম পরিচয়—(একটা ছোট ভুল থেকে)
সেদিন রাস্তায় বিকেলবেলা।
অনি কলেজ থেকে ফিরছিল ধীরে ধীরে। মাথায় প্রচণ্ড ক্লান্তি; সারাদিনের ঝামেলা, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট… সব মিলিয়ে মনটা ভীষণ চাপা ছিল।
হঠাৎ রাস্তায় এক মেয়ে মোটরবাইকের হর্ন শুনে একটু সরে যেতে গিয়ে মোবাইল ফেলে দিল হাত থেকে।
মোবাইলটা মাটিতে পড়ে স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে গেল।
সিঁথির মুখের রঙ দেখে বোঝা যাচ্ছিল—এটা তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।
সে কাঁপা গলায় বলল,
— “আরে… এটা তো বন্ধ হয়ে গেল কেন?”
অনি থেমে গেল।
মানুষের বিপদ দেখলে সে কখনো পাশ কাটায় না।
সে বলল,
— “একটু দেখেন, অন করেন? ব্যাটারি নষ্ট না হলে চালু হবে।”
সিঁথি একটু বিরক্ত, একটু ভয়, একটু লজ্জা মিশিয়ে বলল,
— “না, হচ্ছে না। আজকেই কত কাজ ছিল…”
অনি পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
— “একটু দিন, দেখি।”
সিঁথি মুগ্ধ হয়ে দেখলো—ছেলেটা কোনো অদ্ভুতভাবে মোবাইল ধরছে না, কোনো বাড়তি আচরণ নেই।
শুধুই সাহায্য।
আজকাল এরকম আচরণ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
অনি মোবাইলটাকে দুই মিনিট ধরে চেক করল।
তারপর রিসেট বাটন চেপে হালকা চালু করে দিল।
স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই সিঁথির মুখে এক নিঃশ্বাস স্বস্তি।
— “ হয়েছে! আপনি কিভাবে…?”
অনি হাসল,
— “অনেকের মোবাইল খারাপ হলে আমি ঠিক করি। অভ্যাস হয়ে গেছে।”
সিঁথির চোখে ভরসা জন্মালো।
একজন ছেলে আছে, যে সাহায্য করেছে কিন্তু কোনো ব্যক্তিগত কথা একবারও জিজ্ঞেস করেনি।
আজকের দিনে এটা বিরল।
হালকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল দুজন।
তারপর সিঁথি বলল,
— “আপনি কোথায় পড়েন?”
— “কলেজেই। ম্যানেজমেন্ট।”
অনি উত্তর দিল।
সিঁথি অবাক হয়ে বলল,
— “ও! আমিও তো পাশের ডিপার্টমেন্টে… কিন্তু আপনাকে কখনো দেখি নাই!”
অনি হেসে বলল,
— “আমি নিজের মতো থাকি। বেশি মিশি না।”
এই লাইনটা সিঁথিকে একটু ছুঁয়ে গেল।
কারণ সেও নিজের মতো মানুষ খুঁজছিল।
রাস্তাটা একই হওয়ায় তারা পাশাপাশি হেঁটে গেল কিছুটা পথ।
সামান্য কথা, ছোট ছোট হাসি, আর দুজনের স্বভাবতই সরলত্ব—
এই অল্প সময়েই একটা অদৃশ্য সংযোগ তৈরি হলো।
গেটের সামনে এসে সিঁথি বলল,
— “আপনাকে আজকে পেলে ভালোই হলো। না হলে মোবাইলটা–ই…”
অনি মাঝখানে বলল,
— “হুম, সমস্যা হতো। তবে আর অসাবধানে ধরবেন না… ফোন ভেঙে গেলে কষ্ট নিজেরই।”
সিঁথি একটু তাকালো—
এই ছেলে নির্দেশ দেয় না, উপদেশ দেয় না,
শুধু একটা বোনের মতো করে কথা বলে।
সম্মান করে।
সে বলল,
— “আপনার নামটা জানতে পারি?”
— “অনি।”
— “আমি সিঁথি।”
অনি বলল,
— “সুন্দর নাম।”
সিঁথি একটু লজ্জা পেল,
— “ধন্যবাদ।”
বিদায় নিল দুজন।
কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পথে সিঁথি বারবার পিছনে তাকানোর মতো কেন যেন অনুভব করছিল—
যেন সেদিন রাস্তার সেই ছোট্ট ঘটনাই তার জীবনে বড় কিছু ঘটাতে যাচ্ছে।
সেদিন রাতে সিঁথি অনির নাম সার্চ করল।
অনি দেখল রিকোয়েস্ট এসেছে।
গ্রহণ করল না সঙ্গে সঙ্গে—একটু ভেবেছে, তারপর করেছে।
কারণ সে জানে—
বন্ধুত্ব শুরু হলো ছোট্ট ভুল থেকে, কিন্তু ভবিষ্যতটা যেন কখনো ভুল না হয়ে যায়।
___________
অনি = শান্ত, কেয়ারিং, সিরিয়াস, বেশি কথা না বলে বোঝায়
সিঁথি = হাসিখুশি, সংবেদনশীল, একটু রাগী, কিন্তু মনটা খুব নরম
সম্পর্ক = পরিষ্কার, সম্মানপূর্ণ, গভীর বোঝাপড়া, বাস্তব জীবনের মতো টানাপোড়েন থাকবে
রোমান্স = মিষ্টি, গভীর, কিন্তু সীমার মধ্যে
গল্প = বড়, সাহিত্যিক, বাস্তব, আবেগময়
_______
**অদেখা হৃদয়ের কাছে” — পার্ট ২
প্রথম চ্যাট: বন্ধুত্ব না কি কিছু বেশি?**
সেদিন রাতে অনি ঘরে বসে রিপোর্ট তৈরি করছিল।
হঠাৎ মোবাইল ভাইব্রেট করল —
"Friend request accepted."
সিঁথির নাম দেখে অনির ঠোঁটে অজান্তে অল্প হাসি ফুটে উঠল।
এটা প্রেমের হাসি নয়—
একটা ভালো মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার স্বস্তির হাসি।
কিছুক্ষণ পর সিঁথি চ্যাট পাঠাল:
সিঁথি:
“আজকে ছোট্ট সাহায্যটা… সত্যি ধন্যবাদ 🙂
এত ভদ্রভাবে কেউ কথা বলে না এখন।”
অনি লেখল—
অনি:
“সাহায্য করা জিনিসটা খুব বড় কিছু না।
কিন্তু কেউ মনে রাখলে সেটা বড় হয়ে যায়।”
সিঁথি পড়ে হাসল।
তার হাসিটা ছিল সেই ধরনের—
যা মানুষ খুব কমকে দেখায়।
সিঁথির একটা অভ্যাস —
যাকে ভালো মনে হয়, তাকে সে নিজে থেকেই খোলামেলা হয়।
কিন্তু যাকে সন্দেহ হয়, তাকে আজীবন দূরে রাখে।
অনি তার চোখে ধীরে ধীরে ভরসা পাচ্ছিল।
সিঁথি আবার লেখল—
“আপনি চুপচাপ টাইপের নাকি?
কথা কম বলেন মনে হয়!”
অনি উত্তর দিল—
“হুম… আমি কম কথা বলি।
কিন্তু কারো সাথে কথা শুরু করলে মন থেকে বলি।
অকারণের কথা বলতে ভালো লাগে না।”
এই লাইনটা সিঁথি পড়ে একটু চুপ করে বসে রইল।
কারণ সে জানত, আজকালকার ছেলেরা আগ্রহ দেখাতে গিয়ে
একটা ‘নকল ফ্র্যাঙ্ক’ হয়ে যায়।
কিন্তু অনির কথায় আলাদা একটা শান্ত সুর আছে।
কিছুক্ষণ পর অনি সিঁথিকে বলল—
“আপনার হাঁটার স্টাইলটা আজকে দেখলাম…
সবসময় এমন তাড়াহুড়ো করেন?”
সিঁথি ‘হা হা’ পাঠাল।
— “হুম… আমি একটু তাড়াহুড়ো টাইপ।
আর আপনি একটু স্লো টাইপ, তাই না?”
অনি হালকা মজা করল—
“ধীরে চলা মানেই পিছিয়ে যাওয়া না।
কখনো কখনো ধীরে চললেই সঠিক মানুষ দেখা যায়।”
সিঁথির হৃদয়ে একটু নরম টান পড়ল।
এই টানটা প্রেম নয়…
তবে একটা অচেনা শান্তির টান।
---
দুজনের মেন্টালিটি খুব আলাদা—তবু মিলটাও গভীর
রাতে দুজনই কথা বলতে বলতে বুঝল—
অনি
কেয়ারিং
বেশি সিরিয়াস
কারো ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবে
নিজেকে নিয়ে বড়াই করে না
দায়িত্ব নিতে জানে
মেয়েদের সম্মানের চোখে দেখে
সিঁথি
হাসিখুশি
সংবেদনশীল
রাগ হলে চুপ হয়ে যায়
যার সাথে ভরসা পায়, তার সাথে খুব নরম হয়
নিজের কষ্ট কাউকে বলে না
ভুল বোঝাবুঝিতে দ্রুত মন খারাপ হয়ে যায়
এই দুই মেন্টালিটি মিলেই
একটা বন্ধুত্ব খুব সৎভাবে জন্ম নিতে লাগল।
কথা শেষ হওয়ার আগে
সিঁথি হঠাৎ বলল—
“অনি…
আপনার মধ্যে একটা অদ্ভুত শান্তি আছে।
আজকালকার ছেলেদের মতো আপনি না…
ভিন্নরকম।”
অনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল—
“ভালোর সংজ্ঞা মানুষ মানুষে আলাদা।
তবে আপনাকে ভালো লাগছে,
এই কথাটাই সবচেয়ে বড়।”
সিঁথি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল—
কারণ এরকম সম্মানজনক কথা কেউ তাকে অনেকদিন বলেনি।
রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল।
বিদায় নেওয়ার আগে সিঁথি লিখল—
“অনি…
আমরা কি বন্ধু হতে পারি?”
অনি উত্তর দিল—
“বন্ধু তো আমরা হয়েই গেছি।
এটা বলার দরকার হয় না,
মনে হয়েই যায়।”
এই কথাটা সিঁথিকে অদ্ভুতভাবে ছুঁয়ে গেল।
যেন অনেকদিনের ক্লান্তির পর
একটা ভরসার মানুষের সন্ধান পাওয়া।
দুজন অফলাইন গেল।
কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুজনেরই মনে একই প্রশ্ন—
“এই বন্ধুত্ব…
আরো কিছু হয়ে উঠতে পারে?”
**উপন্যাস: “অদেখা হৃদয়ের কাছে” — পার্ট ৩
প্রথম দেখা–বন্ধুত্বের গভীরতা, মান–অভিমান, আর রোমান্টিক টান**
---
পার্ট ৩: দেখা করার প্ল্যান—কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি শুরু
দুজনের কথাবার্তা কয়েকদিনে এমনভাবে জমে উঠল
যেন বহুদিনের পরিচয়।
সিঁথি নিজের কথা খুব কারও সাথে শেয়ার করে না—
কিন্তু অনির সাথে কথা বলতে বলতে
ভেতরের নরম অংশটা খুলে দিতে শুরু করল।
একদিন সকালে সিঁথি মেসেজ দিল—
সিঁথি:
“আজ বাইরে যাবেন নাকি?”
অনি বুঝল—এটা সরাসরি “দেখা করি” না বললেও
মেয়েরা এভাবেই ইঙ্গিত দেয়।
অনি:
“বিকেলটা ফ্রি আছি। তুমি পারলে কফি খেতে যেতে পারি।”
সিঁথি একটু হাসলো, আরাম পেল।
আজকালকার ছেলেদের মতো
“চলো দেখা করি, চলো ছবি তুলি” টাইপ না—
অনি শান্ত, ধীর, সম্মানজনক।
---
প্রথম দেখা: দুজনের দুই ধরনের মন
বিকেলে অনি আগেই চলে গেল নির্দিষ্ট জায়গায়।
কারণ সে দেরি করা পছন্দ করে না।
সিঁথি বলল ৫ মিনিটে আসবে—
কিন্তু এল ২০ মিনিট পরে।
মেয়েদের এমনই, কিন্তু অনি জানে—
রাগ করলে মেয়েরা আরাম পায় না, উল্টো আরও নার্ভাস হয়।
সিঁথি এসে হালকা রাগী গলায় বলল—
“আরে! এখানে এত ভিড় কেন?
আমি তো আরাম পাচ্ছি না!”
অনি হেসে বলল—
“ঠিক আছে, চাইলে একটু ওপাশে যাই।
চলো, তোমার আরামটাই আগে।”
সিঁথি থমকে গেল।
কারণ সে আশা করেছিল অনি রাগ করবে—
কিন্তু ছেলেটা উল্টো তাকে শান্ত করছে।
অনি তার মেন্টালিটি অনুযায়ী ঠিকটাই করল—
আমার মানুষ যদি অস্থির হয়,
আমি আরেকটু শান্ত হবো।
এই জায়গাটাই সিঁথিকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেল।
---
সিঁথির ছোট মান–অভিমান
দুজন কফি নিয়ে বসল।
কিছুক্ষণ পর সিঁথির ফোনে একটা কল এল—
সিঁথির মুখের ভাব দেখে অনি বুঝল,
কলটা সে পছন্দ করেনি।
কথা শেষ করেই সিঁথি চুপচাপ হয়ে গেল।
অনি লক্ষ করল, কিছু একটা হয়েছে।
অনি:
“মনটা খারাপ লাগছে?”
সিঁথি:
“…না, কিছু না।”
কিন্তু সেই “কিছু না” কথাটা
নরম মেয়েদের সাইলেন্ট সাইন—
“please বুঝতে চেষ্টা করো…”
অনি ধীরে বলল—
“যদি কিছু বলো, ভালো লাগবে।
না বললেও সমস্যা নেই।
আমি আছি।”
এই “আমি আছি” লাইনটা
সিঁথির চোখে পানি এনে দিল।
অনেকদিন কেউ এইভাবে
তাকে নিশ্চিন্ত করেনি।
কিছুক্ষণ পর সিঁথি ধীরে বলল—
“কেউ আমার ওপর বিশ্বাস করে না…
সবাই ভাবে আমি অন্যরকম।
কিন্তু আমি আসলে খুব simple।”
অনি খুব শান্তভাবে বলল—
“যে নিজের সরলতা প্রমাণ করতে চায়,
সে কখনো খারাপ হয় না।
আর তোমাকে আমি যেমন দেখছি…
তুমি অন্যরকম নও—
তুমি নিজের মতো।
এটাই তোমার সুন্দর দিক।”
সিঁথি মাথা নিচু করে হাসল।
সে নিজের অজান্তেই অনির কাছে
আরও নরম হয়ে গেল।
---
ধীরে ধীরে রোমান্টিক টান—কিন্তু খুব সূক্ষ্মভাবে
হাঁটার সময় সিঁথির চুল বারবার মুখে আসছিল।
অনি বলল—
“চুলটা বারবার চোখে লাগছে…
আরাম লাগছে না তো?”
সিঁথি লজ্জা পেয়ে বলল—
“হ্যাঁ… কিন্তু বাঁধতে মন চাইতেছে না।”
অনি নিজের পকেট থেকে রাবার বের করে দিল—
কোনো অদ্ভুত হাসি বা চোখের ইঙ্গিত ছাড়াই।
“রাখো, কাজ লাগবে।
মেয়েদের এসব জিনিস সাথেই থাকা উচিত।”
সিঁথি অবাক।
রোমান্সও হলো,
কেয়ারও হলো,
আবার সম্মানও রইল।
অনি বুঝেছে—
মেয়েকে impress না করে, comfort দিলে সে টিকবেই।
সিঁথির গলায় হালকা স্নিগ্ধ হাসি এল।
এটা সেই হাসি—
যা একটা মেয়ে তখনই দেয়
যখন সে নিরাপত্তা পায়।
---
বাড়ি ফেরার আগে সিঁথির বড় কথা
ফেরার সময় সিঁথি হঠাৎ বলল—
“অনি…
তুমি এমন কেন?
এত শান্ত…
এত কেয়ারিং…”
অনি শান্ত গলায় বলল—
“যাদের মন নরম,
তাদের সাথে নরমভাবেই থাকতে হয়।
আর তুমি…
তোমার ভিতরটা খুব নরম।”
এক মুহূর্তের জন্য
সিঁথি শব্দ হারিয়ে ফেলল।
রাতে সিঁথি মেসেজ পাঠাল—
“আজকে তোমাকে দেখে মনে হলো…
কিছু মানুষ আছে
যারা ভরসার জন্যই জন্মায়।”
অনি শুধু লিখল—
“ভরসা করতে চাইলে, আমি আছি।”
ওই রাত থেকেই সিঁথির মনে একটা প্রশ্ন জন্ম নিল—
এই মানুষটা কি শুধু বন্ধু?
নাকি…
আরো কিছু?”
""""অদেখা হৃদয়ের কাছে ""পার্ট–৪ : অদেখা রাগ, নীরব যত্ন
সন্ধ্যার হালকা বাতাসটা যেন আজ একটু বেশি গুমোট লাগছিল। সিঁথি অনির ম্যাসেজ ‘Seen’ করে রেখে দিল।
অনি প্রথমে ভাবল—হয়তো ব্যস্ত…
কিন্তু সিঁথির আচরণে আজ একটা অদ্ভুত দূরত্ব ছিল। ওর সাধারণ ‘hmm’, ‘acha wait’, ‘আমি পরে বলতেছি’—এসব কিছুই নেই।
হঠাৎ রাত সাড়ে দশটার দিকে সিঁথি লিখল—
“তোমার সাথে কথা বলতে কোনো গুরুত্ব বুঝি নাই আমার?
যদি ব্যস্ত থাকো তো আর নক দিও না।”
অনী কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল। এ রকম কথার তো কারণ থাকা চাই।
হঠাৎ প্রথমবারের মতো সে বুঝল—সিঁথি সত্যিই রেগে আছে।
---
সিঁথির রাগের ভিতরে জমা insecurity
সিঁথি সেদিন সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ প্রজেক্টে ছিল। সবাই জোড়ায় জোড়ায় কাজ করছিল।
তার পাশে বসে থাকা দুই বান্ধবী নিজেদের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে গল্প করছে—
“ও আজকে আমাকে নিয়ে কত টেনশনে ছিল।”
“পাঁচ মিনিট নক না করলে তাড়াহুড়া করে ফোন দিয়ে দেয়।”
সিঁথি তখন চুপচাপ।
মনে হচ্ছিল…
অনি কি আসলেই ওকে গুরুত্ব দেয়?
নাকি শুধু মনে করে—সে তো আছে, চাইলে কথা বলবে!
এগুলো সত্যি কথা নয়, কিন্তু অনুভূতিগুলো সত্যি।
Insecurity এমনই—যেখানে যুক্তির দরকার হয় না, শুধু হৃদয়ের ক্ষত জমে থাকে।
---
অনি পরিপক্বভাবে সামলায়
অনি reply করল না সাথে সাথে। রাগের সময় বিরতি দরকার—এটা সে জানে।
পনেরো মিনিট পর লিখল—
“তোমার রাগটা বুঝতে পারছি।
কিন্তু আমি যদি তোমাকে এড়িয়ে যেতাম—
তুমি কি এখন এসব বলার মতো জায়গায় থাকতে?”
একটু থেমে আবার লিখল—
“তোমার কথাগুলো কষ্ট দিল,
কিন্তু তুমিই গুরুত্বপূর্ণ বলে নিতে পারলাম।”
সিঁথি পড়ে বসে রইল।
ও ভেবেছিল অনি হয়তো রেগে জবাব দেবে, বা দূরে সরে যাবে।
কিন্তু অনির উত্তর বরং ওর ভেতরের অপরাধবোধটা আরও বাড়িয়ে দিল।
---
সিঁথির ভাঙা মন খুলে বলা
সিঁথি লিখল—
“অনি… আমি রাগে বলেছি।
আমি ভয় পাই… তোমাকে হারানোর ভয়।
তুমি যেদিন নীরব থাকো, আমি ভাবি—
হয়তো তুমি আমার মতো ভাবো না।”
এই একটা ম্যাসেজ পড়ে অনির বুক ভিজে গেল।
সে ফোনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপা শ্বাস ফেলল।
যে মেয়েটা তার কাছে নিরাপদ থাকার কথা—
সে যে এ রকম ভয় নিয়ে বেঁচে থাকে,
তা ভাবতেই অনির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
---
অনির নীরব যত্ন
অনি লিখল না—"Don't worry", বা "I am here"—এই ফালতু আশ্বাসের কথা।
ও জানে—বিশ্বাস কথায় নয়, কাজে তৈরি হয়।
সে ধীরে লিখল—
“তোর ভয়কে তাড়াতে আমি রাতে জেগেও থাকব,
কিন্তু তোকে হারানোর মতো বোকামি করব না সিঁথি…
যা কিছুই হোক, আগে আমাকে বলবি।”
সিঁথি typing করছে… আবার থামছে…
তারপর হঠাৎ একটা voice note পাঠাল।
ওর কণ্ঠ ভাঙা—
“অনি… আমার হয়তো তোমার কাছে থাকার যোগ্যতা কম…
কিন্তু তোমার কাছে থাকলে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করি…”
অনি voice note শুনে আর নিজেকে থামাতে পারল না।
বুকের গভীরে একটা অচেনা ব্যথা জমে উঠল।
সে শুধু লিখল—
“সিঁথি, সব মানুষ প্রেম পায় না…
কিন্তু কেউ কেউ এমন মানুষ পায়—
যাকে হারালে নিজের একটা অংশ হারিয়ে যায়।
তুই আমার সেই অংশ।”
---
দুজনের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি
রাত আড়াইটায় সিঁথি লিখল—
“অনি, আমি যদি কোনওদিন খুব রাগ করি, খুব কষ্ট দেই…
তুমি কি তখনও থাকবে?”
অনি বেশি কথা লিখল না।
শুধু একটা লাইন—
“মাঝে মাঝে মানুষ রাগে যা বলে,
হৃদয় ঠিক তার উল্টোটা চায়।
আমি তোমার হৃদয়ের কথাই শুনব।”
সিঁথির চোখের কোনে জল জমে গেল।
মেয়েদের কান্না সবসময় দুঃখে হয় না—
কখনও হয় নিরাপত্তা পেয়ে,
যত্ন ছুঁয়ে গেলে।
সিঁথি ফিসফিস করে বলল—
“অনি… thank you,
তোমাকে পেয়ে আমার ভয় কমে যায়।”
ও জানত না, অনিও সে মুহূর্তে চোখ মুছছিল।
---
এই রাতটার পর দু’জন বুঝল—
ভালবাসা মানে শুধু হাসি নয়,
রাগ–অভিমান–ভয়–নীরবতা—সব একসাথে ধরে রাখা।
শুধু যার সঙ্গে নিরাপদে কাঁদা যায়,
যার কাছে ভেঙে পড়লেও সে পাশে থাকে—
সেই হচ্ছে সত্যিকারের মানুষ।
অনি আর সিঁথি সেই মানুষ দুটো হয়ে উঠছিল একে অন্যের জন্য।
এটাই তাদের সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি।
অদেখা ভয় থেকে দেখা ভালোবাসার পথে যাত্রা।
""""অদেখা হৃদয়ের কাছে :::"" পার্ট–৫ : নীরব ভাঙন, অপ্রকাশিত ভালোবাসা।
সেই রাতের পর দু’জনের সম্পর্কটা আরও পরিণত হয়ে উঠেছিল।
অনেকদিন পর সিঁথিকে এত শান্ত, এত হালকা দেখাচ্ছিল।
অনি ভেবেছিল—এবার বুঝি সব ঠিক হয়ে গেছে।
কিন্তু পৃথিবীর সব সম্পর্কেই একটা অদেখা ছায়া থাকে—
যা হঠাৎ একদিন এসে দাঁড়ায় একদম সামনে।
---
ঘটনা শুরু হয় এক বিকেলে
অনি অফিস থেকে বের হচ্ছিল। হঠাৎ ফোনে নোটিফিকেশন—
“সিঁথি sent a photo.”
অনি ছবিটা খুলতেই গা শিউরে উঠল।
গোলাপি চোখ, ভেজা পাপড়ি, চুপচাপ মুখ—
সিঁথি সেলফি পাঠিয়েছে, কিন্তু ওর মুখে জায়গাজুড়ে কান্নার দাগ।
অনি তাড়াতাড়ি লিখল—
“কি হয়েছে?”
কোনো উত্তর নেই।
দুই মিনিট… পাঁচ মিনিট… দশ মিনিট…
অনি ফোনটা তাকিয়ে আছে, যেন যেকোনো মুহূর্তে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।
এক ঘণ্টার মাথায় সিঁথি শেষমেশ লিখল—
“অনি, আজকে আমার খুব ভয় লেগেছে।”
---
সিঁথির ভিতরের ভাঙন
সিঁথি ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে দেখল তার দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী কথা বলছে—
“তোর প্রেমিকটা তো আজকে তোকে সারাদিন ফোন দিয়েছে।”
“আমারটা আবার surprise নিয়ে অপেক্ষা করছে।”
সিঁথি তখন হাসছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ছে।
কারণ অনি আজ ব্যস্ত ছিল।
ম্যাসেজ করেছে, কিন্তু খুব ছোট।
সিঁথির মাথায় তখন একটা পুরনো ভয় ফিরে আসছিল—
“আমি কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?”
এই একটা প্রশ্নই ওকে মানসিকভাবে ছিঁড়ে ফেলে।
বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ করে সিঁথি ধীরে ধীরে কাঁদতে শুরু করল।
মেয়েরা যখন কাউকে সত্যি ভালোবাসে—
সেই মানুষটার একটুখানি নীরবতাও মনে হয় পৃথিবী ফাঁকা হয়ে গেছে।
---
অনি বুঝে না, কিন্তু অনুভব করে
অনি বারবার লিখছে—
“সিঁথি, কথা বল।
দয়া করে আমাকে অন্ধকারে রেখো না।”
কোনো জবাব নেই।
শুধু দেখা যায় সিঁথি অনির ম্যাসেজগুলো ‘seen’ করছে… কিন্তু কোনো শব্দ নেই।
এমন নীরবতা অনি সহ্য করতে পারে না।
হঠাৎ সে লিখল—
“তোর কান্না শুনে দৌড়ে আসতে না পারা—
এটাই আমার সবচেয়ে বড় ব্যথা।”
এই লাইনটা সিঁথিকে নাড়িয়ে দিল।
ওর চোখ আবার ভিজে উঠল।
---
মনের কথা ভাঙা গলায় বের হয়
সিঁথি লিখল—
“অনি… আমার কখনো কখনো মনে হয়—
আমি যদি হারিয়ে যাই,
তুমি কয়বার খুঁজবে?”
অনি ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরল।
এই প্রশ্নটা তার অস্তিত্বের ভেতর ঢুকে গেল।
সে ধীরে টাইপ করল—
“তুই হারিয়ে গেলে আমি পাগলের মতো খুঁজব।
আমি মানুষ হারাতে জানি না সিঁথি…
বিশেষ করে তোকে?”
সিঁথি কাঁদতে কাঁদতে লিখল—
“আজকে সবাই তার মানুষের কথা বলছিল…
আমি শুধু চুপচাপ ভাবছিলাম—
তুমি কি আমার মতো এতটা ভাবো?”
অনি মাথা নিচু করে বসে রইল।
তার মনে হচ্ছিল, সিঁথি যত ভাঙা…
তার নিজের ভিতরও ততটাই কেঁদে ওঠে।
---
অভিমান জমে ঝড় হয়ে ওঠে
সিঁথি হঠাৎ লিখল—
“তুমি ব্যস্ত থাকো, সেটা আমি বুঝি…
কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়—
তোমার জীবনে আমি কি priority?”
অনি শ্বাস নিয়ে slowly লিখল—
“সিঁথি, সব সময় loud হয়ে ভালোবাসা দেখাতে পারি না।
কিন্তু আমার সব নীরবতার পিছনেও তুই থাকিস।”
সিঁথি আবার লিখল—
“কিন্তু আজকে তো একবারও জিজ্ঞেস করলে না—
আমি ভাল আছি কিনা…”
এই লাইনে অনির ভেতরটা ভেঙে গেল।
সে উত্তর দিল—
“তুই ভাল আছিস কিনা জানার ইচ্ছে হাজার বার ছিল।
কিন্তু তোর হাসি দেখে ভেবেছিলাম—
শायद আজকে কিছু নিয়ে বলতে চাইছিস না।
আমার ভুল হয়েছে, সিঁথি।”
---
অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত—সিঁথির সবচেয়ে ভাঙা স্বীকারোক্তি
সিঁথি ভয় পাওয়া কণ্ঠে voice note দিল—
“অনি… আমি শক্ত মানুষ না।
আমার ভিতরে ভাঙা জায়গা আছে।
তুমি যদি এক মুহূর্তের জন্য দূরে যাও,
আমি ভয় পাই—আমি কি তোমায় হারাচ্ছি?”
আরেকটা voice note আসে—
“আমাকে কেউ এত সুন্দরভাবে ধরে রাখেনি…
তুমি দূরে গেলে আমার পৃথিবী ফাঁকা লাগে…”
অনি voice note শুনে মাথা নিচু করল।
তার চোখ ভিজে উঠল নীরবে।
অনি লিখল—
“তোর ভয় আমার কাছে গর্বের মতো…
কারণ তুই আমাকে এতটা জায়গা দিয়েছিস,
যেখানে আমি চলে গেলে তুই ভেঙে যাস…”
“…আর আমি থাকলে তুই নিরাপদ বোধ করিস।”
---
দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়
রাত তিনটায় অনি লিখল—
“সিঁথি, যেদিন তুই কাঁদিস,
সেদিন আমি নিজের ওপর রাগ করি—
কারণ তোর চোখের একফোঁটা জলও
আমি deserve করি না।”
সিঁথি নিঃশব্দে কাঁদতে কাঁদতে লিখল—
“অনি… তুমি আমাকে হারাতে পারবে না…
কিন্তু আমি তোমাকে হারানোর ভয়ে বাঁচি।”
অনি উত্তর দিল—
“হারাবে কেন?
যে সম্পর্ক কান্না, ভয়, রাগ—সব টপকে টিকে থাকে,
তা ভাঙে না।
শুধু গভীর হয়।”
সিঁথি শুধু লিখল—
“আজকে প্রথমবার মনে হল—
আমি কাউকে সত্যিই ভালোবাসি…”
অনি ফোনটা বুকে চেপে বলল—
“আর আমি তো অনেক আগেই।”
সেই রাত দু’জনের সম্পর্কের নতুন জন্ম দিল।
আরও পরিণত, আরও গভীর, আরও সত্য।
নীরব যত্ন…
অদেখা ভালোবাসা…
ভয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা টান…
সব মিলিয়ে সম্পর্কটা যেন নতুন এক আলোয় দাঁড়িয়ে গেল।
এই ছিল তাদের নীরব কিন্তু সবচেয়ে সত্যিকারের রাত।
"""অদেখা হৃদয়ের কাছে """পার্ট–৬ : নামহীন সম্পর্কের বন্দরে...
সেদিন রাতের কান্নার পরের সকালে
সিঁথি খুব অদ্ভুতভাবে শান্ত ছিল।
অনিকে যেন নতুন করে বিশ্বাস করছে,
আবার যেন একটু ভয়ও পাচ্ছে—
“আমি কি বেশি ভরসা করে ফেলছি…?”
মেয়েরা যখন কাউকে সত্যি ভালোবাসে না,
কিন্তু সেই মানুষটির ওপর হৃদয়ের দরজা খুলে ফেলে—
ওটা প্রেমের চেয়েও গভীর এক সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায়।
যেখানে নাম নেই, নিয়ম নেই, কিন্তু অনুভূতিগুলো সত্যি।
---
সেদিন দুপুরে সিঁথির ম্যাসেজ এল—
“অনি, তুমি কি কখনো ভেবেছ—
আমাদের সম্পর্কটার নাম কি?”
অনি লিখল—
“নামের দরকার আছে?”
সিঁথি—
“সবাই জিজ্ঞেস করে…
‘তোমরা কি প্রেমিক-প্রেমিকা?’
আমি বলি—না।
তখন তারা আবার জিজ্ঞেস করে—
‘তাহলে এত care কেন?’”
অনি কিছুক্ষণ থেমে ভাবল।
তার মনেও প্রশ্নটা বহুবার এসেছে—
কিন্তু উত্তরটা সে কখনো বলেনি।
সে লিখল—
“সব সম্পর্ককে নাম দেওয়া লাগে না সিঁথি…
কিছু বন্ধন থাকে আকাশের মতো—
যা দেখা যায়, কিন্তু স্পর্শ করা যায় না।
তা বলে কি আকাশ কম সত্যি?”
সিঁথি কয়েক মিনিট চুপ… তারপর লিখল—
“তাহলে আমরা কি সেই আকাশ?”
অনি—
“আমরা আকাশ না…
আমরা দুজন সেই মানুষ,
যাদের বন্ধুত্বের ভিতরে এমন একটা জায়গা আছে—
যেখানে প্রেম ঢুকতে পারে না,
কিন্তু ভালোবাসা থেমে থাকে।”
সিঁথির চোখ ভিজে গেল বারান্দায় দাঁড়িয়ে।
হঠাৎ একটা হাওয়া এসে তার চুল উড়িয়ে দিল।
তার মনে হলো—
কেউ তাকে এভাবে কখনো বোঝেনি।
---
একটা ঘটনা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে
সেদিন সন্ধ্যায় সিঁথি তার মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছিল।
তার মায়ের পুরোনো রক্তচাপের সমস্যা ফিরেছে।
হাসপাতালের সাদা আলো, টানটান পরিবেশ—
সব মিলিয়ে সিঁথির বুক মোচড় দিয়ে উঠছিল।
তার পাশে কেউ ছিল না।
কেউ হাত ধরে বলার মতো—
“সব ঠিক হয়ে যাবে”—এমন কেউ না।
হঠাৎ সিঁথি অনিকে ম্যাসেজ দিল—
“আমি খুব ভয় পাচ্ছি।
মা হাসপাতালে…”
অনি এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না।
ভর সন্ধ্যা, রাস্তার জ্যাম—
তবুও সে দৌড়ে বেরিয়ে পড়ল।
সিঁথি অবাক হয়ে দেখল—
অনি হাজির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে।
হাসপাতালের গেটের সামনে, নিঃশ্বাস ফেলা কাঁধে ঘাম,
কিন্তু চোখে এক ধরনের অদ্ভুত নরম নিশ্চয়তা।
“আমি আছি।”
অনি শুধু এই দুটি শব্দ বলল।
সিঁথি কান্না চেপে মাথা নিচু করে ফেলল।
সে কখনোই সম্পর্কের এই গভীরতা আশা করেনি।
এটা প্রেম না…
এটা বন্ধুত্ব না…
এটা কিছু একটা, যা নাম দিলে ছোট হয়ে যায়।
---
সিঁথির মন খুলে দেওয়া
মা ঠিক আছে শুনে সিঁথি ধীরে বলল—
“অনি… তুমি এভাবে আসলে কেন?”
অনি হেসে বলল—
“কারণ যেদিন তুই কাঁদিস,
সেদিন আমি নিজের কাজটাকেই ঘৃণা করি।
তুই ডাকলে না এলেও চলত…
কিন্তু আমি পারতাম না।”
সিঁথি চুপচাপ তাকিয়ে থাকল।
তার চোখে জল।
তবে সেটা দুঃখের না, নিরাপত্তার।
---
নামহীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সত্য
সিঁথি হঠাৎ বলল—
“আমরা কেন প্রেম করি না জানো?”
অনি বিস্মিত।
সিঁথি ধীরে বলল—
“কারণ প্রেম করলে আমরা ভেঙে যেতাম…
আমরা এখন যেভাবে আছি—
এটাই আমাদের সত্যিকারের শক্তি।”
অনি মুগ্ধ হয়ে বলল—
“হয়তো প্রেমে অধিকার থাকে,
কিন্তু আমাদের সম্পর্কে শুধু বিশ্বাস।”
সিঁথির গলা কেঁপে উঠল—
“হ্যা…
আর সেই বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।”
দুজনের মাঝের বাতাসটা তখন এত নরম, এত গভীর—
যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে তাদের জন্য।
---
এই সম্পর্কের রূপটা এ রকম—
- তারা পরস্পরকে হারাতে চায় না
- একে অপরকে নিজের মানুষ মনে করে
- কিন্তু প্রেমের ঝড়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলতে চায়
কিন্তু প্রেমের ঝড়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলতে চায় না
- তারা একে অন্যের দুর্বলতা জানে
- এবং সেই দুর্বলতার ওপর দাঁড়িয়েই সম্পর্কটা টিকে থাকে
এটি এমন এক বন্ধন—
যার নাম নেই,
কিন্তু হৃদয়ের প্রতিটি ধাপে তার অস্তিত্ব রয়েছে।
এই ছিল Part–6।
***অদেখা হৃদয়ের কাছে***পার্ট–৭ : অসুস্থতার মাঝে বন্ধুত্বের যত্ন.....
ইউ
সেদিন সন্ধ্যায় অনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল।
জ্বর, মাথা ব্যথা, ঠান্ডা—সব মিলিয়ে শরীর জর্জরিত।
সে নিজেই কোনো কারণে ডাক্তার দেখায়নি।
কিন্তু সিঁথি জানল কিছু একটা ভুল হয়েছে, অনুভব করল—
“অনি অসুস্থ… এবং ওকে কেউ কেয়ার করছে না।”
সিঁথির হৃদয় ঝলসানো ব্যথায় ভরে গেল।
সে নিজেও ক্লাস শেষে অফিস ফাঁকি দিয়ে সরাসরি অনির কাছে চলে গেল।
---
সিঁথির পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধুর কেয়ার
অনি বিছানায় শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ, চুপচাপ।
সিঁথি ধীরে ধীরে বলল—
“অনি… তুমি একটু পানি খাও।
আমি এখানে আছি, পাশে আছি।
কিছু হলে আমি দেখব।”
অনির চোখ খোলার চেষ্টা হলো।
সিঁথি হাসিমুখে বলল—
“ভয় নেই। আমি এখানে।
এটাই তোমার বাড়ি, আর আমি এখানে থাকার অধিকার রাখি।”
সিঁথির এই কথা শুধু শব্দ নয়,
একটা বন্ধুর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রকাশ।
কেউ প্রেমিকের মতো বলছে না—
কিন্তু কেউ এত গভীরভাবে “ভরসা” দেওয়ার মতো কথা বলছে।
---
সিঁথি অনির যত্নে
সিঁথি পানি আনছে, ওষুধ খাওয়াচ্ছে, কম্বল দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে।
একটু ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল, তারপর অনির হাত ধরে বলল—
“দেখো… আমি থাকব।
তুমি কষ্ট পাবে না।
আজকে তুমি শুধু বিশ্রাম নাও।
আমি সব দেখছি।”
অনির চোখে এক ধরণের শান্তি।
ও জানে—সিঁথি আজও যেমন দিনগুলোতে পাশে ছিল,
আজও ঠিক সেভাবেই থাকবে।
---
বন্ধুত্বের মধ্যে ভালোবাসার গভীরতা
সিঁথি শুধু শারীরিক যত্ন দেখায় না।
ও অনির কথা শোনে, মনে করে, একটু মজা করায়, হেসে তোলার চেষ্টা করে।
“তোমার হাসি দেখেই আমি শান্তি পাই,” সে বলে।
অনি হেসে বলল—
“সিঁথি… তুমি কি কখনো বোঝো না,
আমি শুধু তোমাকে পাশে পেলে খুশি হই?”
সিঁথি মাথা হেলে চুপচাপ।
এখানে প্রেমের কোনো আশা নেই,
কিন্তু সেই বন্ধুত্বের মধ্যে এমন এক ভালবাসা আছে,
যা অনেক সম্পর্ককেও হার মানায়।
---
সিঁথির ভয় এবং যত্ন
রাত হয়। অনি গভীর ঘুমে।
সিঁথি পাশে বসে চুপচাপ তাকিয়ে আছে।
তার ভেতরের ভয়—“অনি যদি হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়?”
ওর হাত ধীরে ধীরে অনির হাতের কাছে রাখে।
সিঁথি মনে মনে ভাবছে—
“আমি কোনো প্রেমিকের মতো অনুভব করি না…
কিন্তু পৃথিবীর সব বন্ধুর মধ্যে আমি হয়তো সবচেয়ে বেশি care করি ওকে।
ও যদি জানত… আমার হৃদয়ও ওর জন্য ঝরে পড়ে।”
---
অনি অনুভব করে নিঃশব্দ ভালোবাসা
অনি ভোরে হালকা জ্বর কমে গেলে চোখ মেলল।
সিঁথি ততক্ষণে হাত ধরেছে।
“তুই বাঁচেছিস… আর আমি শান্ত।”
সে হেসে বলে—
“এটাই বন্ধুত্ব… কিন্তু অনেক বড়।”
“তুই শুধু আমার পাশে থাকবি, আর আমি থাকব—সেটা যথেষ্ট।”
অনি জানল, এই সম্পর্কের নাম প্রেম নয়।
কিন্তু এতো গভীর, এতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—
যা পৃথিবীর প্রেমিকের তুলনায় অনেক শক্ত।
---
শেষ লাইন
সিঁথি জানত—
অনি যতই দূরে বা অসুস্থ হোক,
তার জন্য যে ভালোবাসা, যত্ন, ভয় ও বিশ্বাস—
এটাই তাদের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি।
নামহীন, প্রেমবিহীন, কিন্তু পৃথিবীর সব বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ।
এটাই তাদের “বিশ্বস্ত হৃদয়”।
"""অদেখা হৃদয়ের কাছে""" পার্ট–৯ : বিশ্বাসের পরীক্ষা, বিভ্রান্ত বন্ধুত্ব
সিঁথি জানত অনি তার জন্য কতটা গুরুত্ব দেয়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যত্ন, খেয়াল, ছোট ছোট ম্যাসেজ—
সব মিলিয়ে মনে হয়, পৃথিবীর কোনো বন্ধু এত যত্নশীল হতে পারে না।
কিন্তু হঠাৎ একদিন সব বদলে গেল।
অনির আচরণে এমন কিছু দেখা গেল, যা সিঁথির ভালো লাগল না।
সেদিন অনি হঠাৎ তার সঙ্গে বেশ বাজে ব্যবহার করল—
কিছু কথায়, কিছু হাসিতে এমন নিঃশব্দ আঘাত দিল,
যা সিঁথিকে ভিতরে ভিতরে দগ্ধ করে দিল।
---
সিঁথির বিভ্রান্তি
সিঁথি তার ভেতরে ভেবে বসল—
“আমি কি ভুল বুঝেছি?
ও কি আগের অনিই না, আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু?
কেন হঠাৎ এমন আচরণ করছে?”
সে জানে, অনি কোনো প্রেমিক নয়,
কিন্তু যে care, যে গুরুত্ব ও দেখায়,
সেটা এখন আবার অদ্ভুতভাবে বিপরীত হয়ে গেছে।
সিঁথি চেষ্টা করল সব মেনে নিতে—
কারণ সে জানে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু প্রতিবার অনি মানতে না,
সে যেন সবকিছু ভাঙতে চায়।
সিঁথি নিজেও জানে, এই মুহূর্তে সে কথা বলতে পারছে না—
কারণ বললেই হয়তো বন্ধুত্বের জায়গা হারাবে।
---
পুরুষদের আসল রূপের উপলব্ধি
সিঁথি ভাবল—
“পুরুষরা কি এমন?
যে এত যত্ন দেখায়, আবার হঠাৎ অসংবেদনশীল হয়ে যায়?
যে care, যে খেয়াল—সব কি শুধুই শখ, ক্ষমতার খেলা?”
ভেতরের ক্ষোভ আর হতাশা তাকে কেঁপে দেয়।
সে বোঝে, অনির আচরণ শুধু ভুল নয়,
এটা এমন একটা পরীক্ষা—
যা বন্ধুত্বকে নষ্ট করতে পারে।
---
সিঁথির চুপচাপ সংযম
সিঁথি চুপ থাকে, দেখার চেষ্টা করে,
যে কোনো মুহূর্তে অনি আবার আগের মতো হয়ে যাবে কি না।
সে চেষ্টা করে সম্পর্ককে ধরে রাখতে,
সব মেনে নিতে—কিন্তু অনি কিছুতেই রকমের নয়।
সিঁথি নিজেকে প্রশ্ন করে—
“আমি কি নতুন গার্লফ্রেন্ড পেয়েছি?
না, বন্ধু পেলাম…
কিন্তু হঠাৎ কি হলো?
আমার বিশ্বাস, আমার care—সব কি খালি?”
---
অভিমান আর কষ্টের ঘূর্ণিঝড়
সিঁথি মনে মনে কান্না পায়,
কিন্তু মুখে কিছু বলেনা।
সে জানে, যদি কিছু বলে, অনি হয়তো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
বুকের মধ্যে অসীম কষ্ট, চোখে জল,
মনে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরছে—
“কেন আমার বিশ্বস্ত বন্ধু হঠাৎ আমার অনুভূতিকে আঘাত করে?”
এটা এক ধরনের বন্ধুত্বের পরীক্ষা,
যেখানে care ও ভালোবাসা আছে,
কিন্তু অপরিচিত আচরণ সিঁথিকে ভেঙে দিচ্ছে।
---
শেষ লাইন
সিঁথি জানে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তার দায়িত্ব।
কিন্তু আজও, রাতের নীরবতা
য়,
সে মনে মনে ভাবছে—
“আমি কি আবার আগের মতো সব মেনে নিতে পারব?
নাকি আজকের অনির আচরণ সবকিছু বদলে দিল?”
এটাই সেই মুহূর্ত,
যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুত্বও
পরীক্ষার মুখে পড়ে—
এবং কেউ জানে না, এর পর কী হবে।
2ND PAGE OF অদেখা হৃদয়ের কাছে
নীল রং এ ক্লিক করুন......2nd page আসবে
No comments:
Post a Comment